টাকা ফেরত পেতে সড়ক অবরোধ

470
road strike

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পেতে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের রেলঘুণ্টির মোড়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, অবরোধস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

জানা যায়, বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাবে সহস্রাধিক নারীকে সংগঠনের কর্মী বানিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় উপজেলা ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে সংগঠনের ক্যাশিয়ার ও দুই জন ট্রেইনারসহ তিন জন পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে, নারী সদস্যরা ডোমার সাহাপাড়া এলাকার সংগঠনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাউকে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। দুপুরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পরিচালক নিজেরা থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় সহস্রাধিক সদস্য থানায় উপস্থিত হয়ে টাকা ফেরত চান। সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কোটি টাকার চেক ও নগদ ছয় লাখ টাকা উপজেলা সমবায় অফিসার নুরুজ্জামান খানের নিকট জমা ও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান সংগঠনের সভাপতি মানিক হাসান ও পরিচালক মামুন রহমান।

তারা ছাড়া পাওয়ার পরদিন সদস্যদের টাকা ফেরত দেওয়া কার্যক্রম শুরু করলেও সোমবার সকাল থেকে তাদের আর কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী নারীরা ওদেরও পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন।

ডোমারের স্বল্প আয়ের নারীদের টার্গেট করে প্রায় দেড় মাসে আগে গড়ে উঠে বাংলাদেশ অনলাইন শপিং সার্ভিসেস। প্রতিষ্ঠানটি ৮০ হাজার টাকা জমা দিলে সাত দিন পর একটি দেড় লাখ টাকার দামের মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে। ১৫ দিন পর জমাকৃত ৮০ হাজার টাকাও ফেরত দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি। পরে কিস্তির মাধ্যমে গাড়ির টাকা পরিশোধ করার জন্য সদস্যদের বলা হয়। এতে গ্রামীণ সহজ সরল নারীরা হুমড়ি খেয়ে বিভিন্ন অফার গ্রহণ করেন।

হঠাৎ করে একসঙ্গে এত নারীর উপস্থিতি এলাকাবাসী, পুলিশ ও সাংবাদকর্মীরা সংগঠনের বৈধতার কাগজপত্র দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ১ ডিসেম্বর সমবায় কার্যালয় হতে ডোমার বাজার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি রেজিস্ট্রেশন নেয়। যার রেজি নম্বর-২৪। সংগঠনের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নুরুজ্জামন তদন্ত ছাড়াই ওই রেজিস্ট্রেশন দিয়ে প্রতারকদের বৈধতা দিয়েছেন।

ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের বার বার ওই সমবায় প্রতিষ্ঠানে টাকা দিতে নিষেধ করি। আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, আমরা ভুক্তভোগী নারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।